top of page
  • Writer's pictureMostafizur Rahman

বিলেতে বাড়ি কেনাবেচাঃ ফাস্ট টাইম ল্যান্ডলর্ড (পর্ব-১০০)

বিলেতে প্রপার্টি ক্রয় করে/পরিবর্তন করে বাই টু লেট প্রপার্টি হিসেবে ভাড়া দেয়া একটি লাভজনক বিনিয়োগ। যিনি বাই টু লেট হিসেবে কোন প্রপার্টি ক্রয় করেন এবং সেই প্রপার্টি ভাড়া দেন তাকে বলা হয় বাই টু লেট ল্যান্ডলর্ড। যিনি বাই টু লেট প্রপার্টিতে প্রথমবার এর মত বিনিয়োগ করেছেন তাকে বলা হয় ফাস্ট টাইম ল্যান্ডলর্ড। বিলেতে বাই টু লেট প্রপার্টিতে বিনিয়োগ এবং ল্যান্ডলর্ড সংখ্যা প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে।


বিলেতে বাই টু লেট প্রপার্টি ক্রয় করার জন্য মর্গেজ পাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হল– বিনিয়োগকারী/ অ্যাপলিকেন্ট এর মালিকানাধীন রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি থাকতে হবে। তবে গুটিকয়েক বিশেষায়িত ব্যাংক কিছু শর্ত সাপেক্ষে ফাস্ট টাইম বায়ারদের বাই টু লেট মর্গেজ দিয়ে থাকে। কোন বিনিয়োগকারী বিলেতে মা-বাবার মালিকানাধীন রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টিতে বসবাস করলে তিনিও বিলেতে বাই টু লেট প্রপার্টির মালিক হতে পারবেন। আবার উত্তরাধিকারসূত্রে, কর্মস্থান পরিবর্তন অথবা অন্য কোন কারণে কোন ব্যক্তি যদি হঠাৎ করে কোন বাই টু লেট প্রপার্টির ওউনার হয়ে যান তখন তাকে অ্যাক্সিডেন্টাল ল্যান্ডলর্ড বলে।

কেন বাই টু লেট প্রপার্টিতে বিনিয়োগ করবেনঃ

দৃশ্যমান এবং স্থায়ী সম্পদঃ বাই টু লেট প্রপার্টি হল একটি দৃশ্যমান, স্পর্শ করা যায় এবং স্থায়ী সম্পদ। বাই টু লেট প্রপার্টি সহজে ব্যক্তিগতভাবে অথবা লেটিং এজেন্ট এর মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা যায়। অন্যদিকে স্টক এবং শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ দৃশ্যমান নয় এবং ব্যবস্থাপনার জন্য শেয়ার মার্কেট অথবা ব্রোকারেজ হাউজের প্রয়োজন হয়।

পোর্টফলিও বৈচিত্রতাঃ গ্রেট ব্রিটেনে প্রপার্টির মূল্য প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিলেতের প্রপার্টি মার্কেটে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে একজন বিনিয়োগকারী একদিকে যেমন তার পোর্টফলিওর মধ্যে বৈচিত্রতা আনতে পারবেন অন্যদিকে তার বিনিয়োগের ঝুঁকি কমে আসবে এবং প্রপার্টি একটি স্থায়ী সম্পদ হওয়ার কারণে তার বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ফিনান্সিয়ালী স্টাবল হবে।

মূলধন বৃদ্ধি এবং ইনফ্লেশনঃ ইনফ্লেশন এর কারণে পাউন্ড এর মূল্য কমে যায়। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, গ্রেট ব্রিটেনে প্রপার্টির মূল্য প্রতি বছরই বৃদ্ধি পায়। প্রপার্টি মার্কেটে বিনিয়োগ করলে সম্পদকে ইনফ্লেশন থেকে রক্ষা করা যায়। এখন প্রপার্টি ক্রয় করার পর মূল্য বৃদ্ধি পেলে, পরবর্তীতে প্রপার্টি বিক্রয় করে মূলধন বৃদ্ধি করা যায়।

বাই টু লেট প্রপার্টির সংখ্যা বৃদ্ধিঃ প্রপার্টি ক্রয় করা হল এক ধরণের বিনিয়োগ। প্রথম বাই টু লেট প্রপার্টি ক্রয় করার ২ বছর বা ৫ বছর পর প্রপার্টির মূল্য বৃদ্ধি পেলে। এই প্রপার্টি রি-মর্গেজ করে, রি-মর্গেজ এর টাকা ডিপোজিট হিসেবে ব্যবহার করে আরেকটি বাই টু লেট প্রপার্টি ক্রয় করা যায়।

২০২৩ সালে বিলেতের প্রপার্টি সেক্টরে মর্গেজ ইন্টারেস্ট রেটের পরিবর্তন, রেন্টাল রিফর্ম বিল, সেকশন ২১ ধারা বিলুপ্তি ইত্যাদি কিছু পরিবর্তন হচ্ছে এবং আরও কিছু পরিবর্তন হবে। তাই ২০২৩ সালে বিলেতের প্রপার্টি সেক্টরে বিনিয়োগ করার আগে ল্যান্ডলর্ডদের যে সব বিষয় এর প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবেঃ-

১) ইনফ্লেশন এবং বেইস ইন্টারেস্ট রেট ২) মর্গেজ ইন্টারেস্ট রেট ৩) প্রপার্টির মূল্য

৪) প্রপার্টির রেন্ট ৫) প্রপার্টি লাইসেন্স ৬) হাউস ইন মাল্টিপল অকুপেসন (HMOs)

৭) রেন্টাল রিফর্ম বিল ৮) রেন্ট গ্যারান্টি ইনস্যুরেন্স ৯) ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের পরিবর্তন

১০) ক্লাডিং প্রপার্টি মর্গেজ

বিলেতে যেসব ল্যান্ডলর্ডের এক থেকে তিনটি বাই টু লেট প্রপার্টি আছে, তাদেরকে এ্যামাচার ল্যান্ডলর্ড বলে। তাই ফাস্ট টাইম ল্যান্ডলর্ডরা একধরনের এ্যামাচার ল্যান্ডলর্ড। আইন অনুযায়ী এ্যামাচার ল্যান্ডলর্ডদের বলা হয় নন-পোর্টফলিও ল্যান্ডলর্ড এবং অন্যদিকে যেসব ল্যান্ডলর্ডদের চার বা চার এর অধিক বাই টু লেট প্রপার্টি আছে তাদেরকে বলা হয় পোর্টফলিও ল্যান্ডলর্ড। বিলেতে বাই টু লেট প্রপার্টি ক্রয় করার পর ফাস্ট টাইম ল্যান্ডলর্ডরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। তাই প্রপার্টি ক্রয় করার পর ফাস্ট টাইম ল্যান্ডলর্ডদের যেসব বিষয় এর প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

১) প্রপার্টি সংস্কার ২) টেনেন্সি এগরিমেন্ট এবং প্রপার্টি ব্যবস্থাপনা ৩) প্রপার্টি রি-মর্গেজ

৪) রেন্ট গ্যারান্টি ইনস্যুরেন্স ৫) ল্যান্ডলর্ড ট্যাক্স ৬) কনসেন্ট টু লেট ৭) এনার্জি এফিসিয়েন্ট সার্টিফিকেট (EPC) ৮) সেফটি এবং সার্টিফিকেট ৯) রেন্ট এবং টেনেন্সি ডিপোজিট প্রটেকশনস(TDP) ১০) টেন্যান্ট ফি অ্যাক্ট ১১) টেন্যান্সি সমাপ্ত করার ধারা

বাই টু লেট প্রপার্টির জন্য মর্গেজ

প্রপার্টি কেনার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়াকে বলা হয় মর্গেজ। বিলেতে কেউ যদি ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোন প্রপার্টি কিনে থাকে এবং সে ধরনের প্রপার্টির জন্য যে মর্গেজ দেওয়া হয়, তাকে বাই টু লেট মর্গেজ বলে।বাই টু লেট মর্গেজ প্রক্রিয়ায় মিনিমাম ডিপোজিট এবং ইন্টারেস্ট রেট রেসিডেন্সিয়াল মর্গেজ থেকে কিছুটা ভিন্নরকম হয়ে থাকে। বাই টু লেট মর্গেজ এ সর্বোচ্চ চারজন একসাথে আবেদন করতে পারবে। বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যাংক সর্বোচ্চ ৭৫% পর্যন্ত বাই টু লেট মর্গেজ দিয়ে থাকে।মর্গেজ এর পরিমান নির্ভর করে মূলত প্রপার্টির রেন্টাল ইনকাম এর উপর। এছাড়া মর্গেজ আবেদনকারীর ইনকাম, ট্যাক্স·স্ট্যাটাস, মিনিমাম ডিল পিরিয়ড এগুলোও বিবেচনায় আনা হয় মর্গেজ এপ্লিকেশনে । বাই টু লেট মর্গেজ ব্যক্তিগত নামে নেওয়া যায় অথবা কোন কোম্পানি গঠন করেও নেওয়া যায়।বাই টু লেট মর্গেজ যেহেতু ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়, তাই বেশির ভাগ সময় ইন্টারেস্ট অনলি বেসিস এ নেওয়া হয়। তবে কেউ চাইলে ক্যাপিটাল এবং ইন্টারেস্ট বেসিস এ নিতে পারবেন। এখন কোন ব্যাক্তি যখন বাই টু লেট প্রপার্টি কেনার জন্য মর্গেজ অ্যাপলিকেশন করে। তখন ল্যান্ডাররা ৬টি প্রধান বিষয় বিবেচনা করে মর্গেজ অ্যাপলিকেশন প্রসেস করে। এই ৬টি প্রধান বিষয়কে “সিক্স পিলার অব মর্গেজ ল্যান্ডিং” বলে।

# লোন টু ভ্যালু # লোন টু ইনকাম # এফোরডেবিলিটি

# প্রপার্টির ধরণ #অ্যাপলিকেন্ট এর আর্থিক অবস্থা # ক্রেডিট হিস্ট্রি

বিলেতে বাই টু লেট প্রপার্টিতে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেবার পর এবং মর্গেজ নিয়ে বাই টু লেট প্রপার্টি ক্রয় পরিকল্পনা করার পর অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ মর্গেজ এডভাইজর এর পরামর্শ নিন। কেননা একজন মর্গেজ এডভাইজর আপনার সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আপনার জন্য সঠিক মর্গেজটি নির্বাচন করবে।

বিলেতে মর্গেজ নিয়ে প্রপার্টি কিনতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। তবে যদি আপনার ভালো প্রস্তুতি থাকে তাহলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ক্রয় প্রক্রিয়াটা দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। তাই মর্গেজ নিয়ে বাই টু লেট প্রপার্টি ক্রয় পরিকল্পনা করার পর মর্গেজ ল্যান্ডর অথবা মর্গেজ এডভাইজর নিকট পরামর্শ নেবার আগে। নিন্মোক্ত বেসিক ডকুমেন্টসমূহ সংগ্রহ করে রাখুন।

# পরিচয়পত্র: # ঠিকানার প্রমাণপত্র: # পে-স্লিপ অথবা ট্যাক্স ডকুমেন্টস # ব্যাংক স্টেটমেন্ট

# ডিপোজিট স্টেটমেন্ট:# ক্রেডিট রিপোর্ট: # ইলেক্ট্ররাল রোল:


প্রপার্টি মার্কেট এবং মর্গেজ সংক্রান্ত যেকোন ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে নিচের ইমেইল অথবা টেলিফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে।

EMAIL: info@benecofinance.co.uk

PHONE: +4402080502478


14 views0 comments

Comments


bottom of page