top of page
  • Writer's pictureMostafizur Rahman

বিলেতে বাড়ি কেনাবেচা: সচারচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (পর্ব-৬৮)

১) আমি প্রপার্টি কিনতে চাই। আমি কিভাবে প্রপার্টি ক্রয় এর প্রক্রিয়া শুরু করব ?

বিলেতে প্রপার্টি কেনার প্রক্রিয়া অনেকটা সহজ। কারণ প্রপার্টি কিনতে পুরো অর্থের জোগাড় করতে হয়না। যদি কিছু সেভিংস থাকে আর ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য থাকে তাহলে খুব সহজেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রপার্টি ক্রয় করা যায়। প্রপার্টি কেনার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়াকে বলা হয় মর্গেজ। মর্গেজ পাওয়ার জন্য আপনি সরাসরি কোন হাই-স্ট্রিট ব্যাংকে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা কোন মর্গেজ এডভাইজারের সহযোগিতা নিতে পারেন।

বিলেতে মর্গেজ নিয়ে প্রপার্টি কিনতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। তবে যদি আপনার ভালো প্রস্তুতি থাকে তাহলে কোন ঝামেলা ছাড়াই ক্রয় প্রক্রিয়াটা দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। তাই মর্গেজ প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিন্মের ডকুমেন্ট সংগ্রহে রাখা উচিৎ।

# পরিচয়পত্র: # ঠিকানার প্রমাণপত্র # পে-স্লিপ এবং ট্যাক্স রিটার্ন # ব্যাংক স্টেটমেন্ট: # ডিপোজিট স্টেটমেন্ট # ক্রেডিট রিপোর্ট: # ইলেক্ট্ররাল রোল:


২) আমার ক্রেডিট রিপোর্টে ডিফল্ট রেজিস্টার আছে। আমি কিভাবে প্রপার্টি মর্গেজ এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারি?

ক্রেডিট রিপোর্টে ডিফল্ট রেজিস্টার থাকলে, প্রপার্টি মর্গেজ এর জন্য অ্যাপ্লাই করা যাবে।

প্রত্যেক মর্গেজ এপ্লিকেশন এর বিপরীতে ব্যাংক আবেদনকারীর ক্রেডিট হিস্ট্রি চেক করে থাকে। একটি ক্রেডিট রিপোর্ট এ মূলত: নাম,জন্ম তারিখ, বর্তমান ঠিকানা, পূর্বের ঠিকানা, ইলেক্টোরাল নিবন্ধন এবং বিগত ৬ বছরের ক্রেডিট হিষ্ট্রি লিপিবদ্ধ থাকে। এছাড়া কারও যদি কোন কোর্ট জাজমেন্ট অথবা লেনদেন ডিফল্ট থাকে, সেটিও ক্রেডিট রিপোর্ট এ রেকর্ড থাকে, কেউ যদি ক্রেডিট কার্ডের অথবা লোন এর নিয়মিত পেমেন্ট দিতে কখনও দেরি করেন অথবা কোন মাসে মিসড্ করেন তাহলে সেটিও ক্রেডিট রিপোর্ট এ রেকর্ড থাকে।

কারও যদি ক্রেডিট রিপোর্ট ভালো না থাকে, তাহলে অনেক হাই-ষ্ট্রীট ব্যাংক মর্গেজ দেয় না, তবে এক্ষেত্রে অনেক নন – হাই-ষ্ট্রীট ব্যাংক আছে যারা কিছুটা বেশি ইন্টারেস্ট রেট এ মর্গেজ দিয়ে থাকে।

৩) আমরা গভমেন্ট এর নিকট হতে বেনিফিট পেয়ে থাকি। আমরা কি প্রপার্টি মর্গেজ এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারব ?

 আপনি যখনই কোন মর্গেজ ল্যান্ডার এর নিকট মর্গেজ অ্যাপলিকেশন করবে, তখন ল্যান্ডার প্রথমেই আপনার মর্গেজ এফোরডেবিলিটি এবং আপনার ইনকাম চেক করবে। তারা দেখবে আপনার বাৎসরিক ইনকাম কত, আপনার ইনকামের স্ট্যাবিলিটি কেমন এবং আপনি মাসিক মর্গেজ পেমেন্ট ঠিক মত দিতে পারবেন কিনা।

নিন্ম লিখিত বেনিফিট সমূহ সাধারণত মর্গেজ ল্যান্ডারগণ ইনকাম হিসেবে গ্রহণ করে থাকেঃ

# Carers Allowance # Child Benefit # Disability Living Allowance (DLA)

# Maternity Allowance # Housing benefits* # Child tax credit* # Working Tax Credit*

(* ইনিভারসেল ক্রেডিটে পরিবর্তিত হয়েছে)

মর্গেজ নেবার পর চাইল্ড বেনিফিট, ডিজাবিলিটি এ্যালাউনস, কেয়ারার এ্যালাউনস, ম্যাটারনিটি এ্যালাউনস এর কোন রকম পরিবর্তন হবে না। কিন্তু ইনিভারসেল ক্রেডিটের উপর মর্গেজ এর ইফেক্ট পরতে পারে। মর্গেজ অ্যাপলিকেশন এর সময় আপনার বেনিফিটের পেপার এবং ৬ মাসের ব্যাংক স্ট্যাটমেন্টস সংগ্রহে রাখুন।


৪) ইসলামিক মর্গেজ এর জন্য কিভাবে অ্যাপ্লাই করতে হয় ?

 বিলেতে আপনারা যারা মর্গেজ এর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে প্রপার্টি কিনতে চান কিন্তু ব্যাংক লোন এর ইন্টারেস্ট ইসলামিক শরিয়ার কারণে দিতে চান না। এক্ষেত্রে আপনারা ইসলামিক মর্গেজ বা হোম পারচেজ প্ল্যান (HPP) এর মাধ্যমে প্রপার্টি কিনতে পারবেন। বিলেতে ইসলামিক মর্গেজ শরিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

ইসলামিক মর্গেজ এর মাধ্যমে প্রপার্টি ক্রয় এবং সাধারণ মর্গেজ এর মাধ্যমে প্রপার্টি ক্রয় এর মধ্যে বাহ্যিক কোন ভিন্নটা নেই। ইসলামিক ফিনান্সিয়াল মডেল কাজ করে রিস্ক শেয়ার এর ভিত্তিতে। এই মডেল এ কাস্টমার এবং ল্যান্ডার বা ব্যাংক উভয়ই তাদের ইনভেস্টকৃত এসেট এর জন্য রিস্ক শেয়ার করবে।

ইসলামিক মর্গেজ অ্যাপলিকেশন এর সময় ল্যান্ডারগণ আপনার কাছে যে সব তথ্য জানতে চাইবেঃ

# পরিচয়পত্র # ঠিকানার প্রমাণপত্র # পে-স্লিপ এবং ট্যাক্স রিটার্ন # ব্যাংক স্টেটমেন্ট # ডিপোজিট স্টেটমেন্ট # ক্রেডিট রিপোর্ট # ইলেক্ট্ররাল রোল


৫) প্রপার্টি ক্রয় করতে আমার কি ইনস্যুরেন্স করতে হবে ?

বিলেতে মর্গেজ এর মাধ্যমে প্রপার্টি কিনার ক্ষেত্রে বিল্ডিং ইনস্যুরেন্স করা বাধ্যতামূলক। আপনি যখন মর্গেজ এর মাধ্যমে প্রপার্টি কিনতে যাবেন তখন আপনার ল্যান্ডার আপনার কাছে জানতে চাইবে আপনি যে প্রপার্টি এর জন্য মর্গেজ চাচ্ছেন তার জন্য বিল্ডিং ইনস্যুরেন্স করা আছে কিনা। মর্গেজ পাওয়ার জন্য ডেট অফ এক্সচেঞ্জ থেকে আপনার প্রপার্টি এর জন্য বিল্ডিং ইনস্যুরেন্স করতে হবে।

৬) আমার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আছে, আমি কি প্রপার্টি মর্গেজ এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারব ?

এই ব্যপারে আপনি একজন অভিজ্ঞ মর্গেজ এডভাইজর এর সাথে পরামর্শ করুন। সাধারণত নিন্মের ভিসা সমূহ ল্যান্ডারগণ একসেপ্ট করে থাকেঃ

# Tier 1 Visa # Tier 2 Visa # Tier 5 Visa # Spousal Visa # Ancestry Visa

# Work Visa # Student Visa # British National Overseas (BNO) Visa


৭) EPC কি ? কেন আমাদের এই সার্টিফিকেট লাগবে?

বিলেতে প্রপার্টি ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া এবং সংস্কার/তৈরি করতে চাইলে আপনার Energy Performance Certificate (EPC) এর প্রয়োজন হবে। EPC সার্টিফিকেট দ্বারা আপনার প্রপার্টিতে কি পরিমাণ এনার্জি খরচ হয় এবং আপনার প্রপার্টি কতটা এনার্জি এফিসিয়েন্ট তার বিস্তারিত রিপোর্ট পাবেন।

আপনার প্রপার্টিকে A থেকে G এর মধ্যে একটি রেটিং করা হবে। আপনার EPC সার্টিফিকেট এর মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত থাকবে। EPC সার্টিফিকেট এ কিভাবে আপনি আপনার প্রপার্টির এনার্জি খরচ কমাতে পারেন তার জন্য সুপারিশমালা পাবেন। নতুন প্রপার্টি ক্রয়, বিক্রয় এবং ভাড়া দেয়ার জন্য নুন্যতম E রেটিং এর EPC সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হবে। নতুন আইন অনুযায়ী E রেটিং এর নিচে EPC সার্টিফিকেট প্রাপ্ত প্রপার্টিকে লোকাল অথরিটি £4000 পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে।

৮) খারাপ ক্রেডিট স্কোর থাকলে প্রপার্টি ক্রয় অথবা মর্গেজ পাওয়া যাবে কি ?

 প্রত্যেক মর্গেজ এপ্লিকেশন এর বিপরীতে ব্যাংক আবেদনকারীর ক্রেডিট হিস্ট্রি চেক করে থাকে। একটি ক্রেডিট রিপোর্ট এ মূলতঃ নাম,জন্ম তারিখ, বর্তমান ঠিকানা, পূর্বের ঠিকানা, ইলেক্টোরাল নিবন্ধন এবং বিগত ৬ বছরের ক্রেডিট হিষ্ট্রি লিপিবদ্ধ থাকে। এছাড়া কারও যদি কোন কোর্ট জাজমেন্ট অথবা লেনদেন ডিফল্ট থাকে, সেটিও ক্রেডিট রিপোর্ট এ রেকর্ড থাকে, কেউ যদি ক্রেডিট কার্ডের অথবা লোন এর নিয়মিত পেমেন্ট দিতে কখনও দেরি করেন অথবা কোন মাসে মিসড্ করেন তাহলে সেটিও ক্রেডিট রিপোর্ট এ রেকর্ড থাকে।

কারও যদি ক্রেডিট রিপোর্ট ভালো না থাকে, তাহলে অনেক হাই-ষ্ট্রীট ব্যাংক মর্গেজ দেয় না, তবে এক্ষেত্রে অনেক নন – হাই-ষ্ট্রীট ব্যাংক আছে যারা কিছুটা বেশি ইন্টারেস্ট রেট এ মর্গেজ দিয়ে থাকে।

৯) প্রপার্টি ক্রয় করলে আমাকে কি পরিমাণ স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হবে ?

 বিলেতে আপনি যখন কোন রেসিডেন্সিয়াল অথবা বাই টু লেট প্রপার্টি ক্রয় করবেন অথবা কোন জমি কিনবেন তখন আপনাকে প্রপার্টি/ ল্যান্ড এর মোট মূল্যের উপর শতকরা হারে সরকারকে একটি ট্যাক্স দিতে হয়। এই ট্যাক্সকে ইংল্যান্ড ও নর্থ আয়ারল্যান্ড বলা হয় “স্ট্যাম্প ডিউটি ল্যান্ড ট্যাক্স (SDLT)” ।

আপনি যদি ফার্স্ট টাইম বাইয়ার হোন, তাহলে ৩০০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত প্রপার্টির দাম এর উপর কোন স্ট্যাম্প ডিউটি নেই। আপনার প্রপার্টির দাম যদি ৩০০ হাজার পাউন্ড এর বেশি হয় তাহলে আপনাকে স্ট্যাম্প ডিউটি ট্যাক্স দিতে হবে। স্ট্যাম্প ডিউটি এর রেট ২% থেকে ১২% পর্যন্ত হতে পারে।

বাই টু লেট প্রপার্টি কেনার ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটিঃ আপনার নামে যদি একটি প্রপার্টি থাকে, তাহলে দ্বিতীয় প্রপার্টি কেনার সময় আপনাকে এডিশনাল রেট এ স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ করতে হবে। এজন্য প্রথম ১২৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ৩% অতঃপর ২৫০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ৫% এবং ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন ধাপে স্ট্যাম্প ডিউটি রেট বৃদ্ধি পাবে।


১০) ফার্স্ট টাইম বাইয়ার হিসেবে আমি কি বাই টু লেট প্রপার্টি ক্রয় করতে পারব ?

বিলেতে আপনি যদি আপনার ফ্যামিলির সাথে থাকেন এবং প্রপার্টি মার্কেটে ইনভেস্ট করার জন্য ফার্স্ট টাইম বায়ার হিসেবে বাই টু লেট প্রপার্টি কিনতে পারবেন।


১১) আমার ভাই এর রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি ক্রয় এর ক্ষেত্রে আমি সাহায্য করতে চাই। এক্ষেত্রে আমি কিভাবে তাকে সাহায্য করতে পারি ?

আপনি আপনার ভাইকে রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি ক্রয় করতে যে ডিপোজিট লাগবে তার একটি অংশ গিফটেড.ডিপোজিট হিসেবে দিতে পারেন।

অথবা আপনি জয়েন্ট বরোয়ার সোল প্রপ্রাইটর মর্গেজ (JBSP) এর মাধ্যমে আপনার ভাই এর সাথে যৌথ ভাবে রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি কিনতে পারবেন।

প্রপার্টি মর্গেজ এবং ইনস্যুরেন্স সম্পর্কে আপনাদের কোন মতামত বা জিজ্ঞাসা থাকলে নিন্মের ইমেইল অথবা ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন।

Tel: +4402080502478

11 views0 comments

Comments


bottom of page